আলু চাষ করেছে কৃষক, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবসায়ীর হাতে!
আলু চাষ করেছে কৃষক, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবসায়ীর হাতে!
আজ, ১৭ এপ্রিল ২০২৫। ঢাকার বিভিন্ন বাজার এবং বিশ্বস্ত কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে আলুর খুচরা মূল্য জাতভেদে ২৫ থেকে ৩০ টাকা প্রতি কেজি। অথচ সেই একই আলু কৃষকের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা কেজিতে। প্রশ্ন জাগে, এই বিশাল মূল্য ব্যবধানের দায় কার?
অনেকে বলছেন, এ বছর আলুর উৎপাদন বেশি হয়েছে, তাই দাম কম। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এটাই কি একমাত্র কারণ? আমার কাছে এটি পুরো চিত্রের খুব সামান্য একটি অংশ। বাস্তবতা হলো, সরকার কৃষকের প্রতি যে উদাসীন, সেটিই এই সংকটের মূল চালিকাশক্তি। যদি অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া যেত, তবে আজকের বাজারে আলুর দাম ১২-১৫ টাকার মধ্যে থাকাটাই স্বাভাবিক হতো।
দুঃখজনকভাবে, কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে সরকার যেন বরং কৃষকের অস্তিত্বই ভুলে গেছে। কেবল উৎপাদনের খরচই বলি—এবারের মৌসুমে আলুর বীজ, সার, কীটনাশক—সবকিছুর দাম ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। অথচ এর কোনো নিয়ন্ত্রণই সরকারের পক্ষ থেকে লক্ষ্য করা যায়নি।
বিগত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে কৃষকরা যখন একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল, তখনই এই হতাশার ধাক্কা যেন সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষির আশায় অনেক মেধাবী তরুণ ফিরে গিয়েছিল বাপ-দাদার পেশায়। তারা বিশ্বাস করেছিল, কৃষিই হবে আগামী দিনের সফলতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। সাধারণ মানুষও ভেবেছিল, কৃষি খাতে প্রযুক্তির ছোঁয়া এনে তরুণরাই গড়ে তুলবে নতুন কৃষিবিপ্লব।
কিন্তু আজ, সব স্বপ্ন একরাশ হতাশায় পরিণত।
একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষক ভেঙে পড়ছে। মাঝখান থেকে মুনাফা কুড়াচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।
এটাই কি সেই স্বপ্নের ডিজিটাল কৃষি?
এটাই কি কৃষকের প্রাপ্য?
যদি এখনই কঠোরভাবে সিন্ডিকেট দমন, উৎপাদন উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না করা হয়—তবে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে আমাদের সবাইকেই। কারণ, কৃষক বাঁচলে তবেই তো দেশ বাঁচবে!

Comments
Post a Comment